শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
কসবায় ২৪ ঘণ্টা মানসম্মত চিকিৎসাসেবার প্রত্যয়ে মডেল হসপিটালের যাত্রা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া: বাংলাদেশের কূটনৈতিক চিন্তা, জাতীয় স্বার্থ ও বৈশ্বিক অবস্থানের পাঠ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিশ্ববাঙালি সংসদ শারদ সম্মাননা পেলেন ৯ গুণীজন মাগুরার নিখোঁজ রত্নাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মামলা অন্য কোনো এজেন্সি বা সংস্থায় হস্তান্তর দাবি ট্রাফিক স্কুলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী পালন সবার আগে বাংলাদেশ শীর্ষক টিডিএসে ফ্রি চক্ষু সেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত কসবায় ব্যাংকার্স ফোরামের বিদায় বরণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং উপদেষ্টা মন্ডলী গঠন আরএমপিতে ফয়জুল কবিরের নেতৃত্বে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের নতুন দিগন্ত দাকোপের বাজুয়ায় আব্দুল মান্নান খানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল সম্পন্ন কসবায় অবৈধ ড্রেজিংবিরোধী অভিযান, ২টি ড্রেজার ধ্বংস ও ১ লাখ টাকা জরিমানা
ইয়াস কেড়েনিয়েছে ঘরের পলিথিনের ছাউনিও

ইয়াস কেড়েনিয়েছে ঘরের পলিথিনের ছাউনিও

আমির হোসেন, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাকরাইল গ্রামের মৃত. মো. শাহজাহান হাওলাদারের পুত্র মো. টিটু হাওলাদারের পৈত্রিক সম্পত্তি থাকতেও অর্থাভাবে বসতঘর তৈরী করতে না পারায় স্ত্রী ও স্কুল পড়ুয়া পুত্রকে নিয়ে যাযাবর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় কোনরকম টিনের বেড়া দিয়ে সুপারি গাছের চেরা ও পলিথিনের ছাউনির ঘরটুকুও ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে সেখানে কোন মানুষের পক্ষে বসবাস করা সম্পুর্ণ দুঃসাধ্য ব্যাপার।

টিটু হাওলাদার বলেন, ৭বছর বয়সের সময় মা মারা যান। তখন আমরা ৩ভাই বোন। ছোট অবস্থায় মা মারা যাওয়ায় মামাদের মাধ্যমে ঝালকাঠিতে বসবাস শুরু করি। ঝালকাঠি শহরতলীর বিকনা এলাকায় (বাসন্ডা ব্রিজের পুর্বঢালে) একটি ঘরে থাকতাম। বোনের বিবাহ হওয়ায় সে শ্বশুর বাড়িতে আছেন। বড় ভাই কয়েক বছর আগে নিহত হয়েছেন। ওই এলাকায়ই টিনের একটি ঘরে ৩শত টাকা ভাড়ায় একটি কক্ষে স্ত্রী ও স্কুল পড়ুয়া পুত্রকে নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে। পুঁজি না থাকায় অটো রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে সক্ষম না হওয়ায় ওই কক্ষেরই একপাশে স্ত্রীকে চায়ের দোকান দিতে হয়েছে। দুজনের কষ্ট ও পরিশ্রমে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে সন্তানের পড়ালেখা চালিয়ে নিজেদের দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোগাড় করাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। পৈত্রিক ভিটায়ও বসবাসের উপযোগী ঘর না থাকায় সেখানে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। পলিথিনের ছাউনীটুকুও ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন রোদ, বৃষ্টি, বন্যা হলে কোনভাবেই বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না।

টিটুর স্ত্রী শামিমা সুলতানা বলেন, সাকরাইল গ্রামে আমার শ্বশুর বাড়িতে জমি থাকলেও মানুষ হিসেবে বসবাসে কোন উপায় নেই। রোদ, বৃষ্টি, বন্যা, বাতাস সবই মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। একমাত্র শিশু পুত্রকে নিয়ে এতো কষ্টে জীবনযাপন করতে হচ্ছে তা ভাষায় বুঝাতে পারছি না। যদি সরকারীভাবে একটি ঘর পাওয়া যেতো, তাহলে আমাদের মাথা গোজার ঠাঁই হতো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির সিকদার বলেন, মৃত. শাহজাহান হাওলাদারের জমি থাকলেও সেখানে নেই কোন বসবাস উপযোগী ঘর। অর্থাভাবে তুলতে পারছে না ঘরও। আমরা স্থানীয়দের সহায়তায় সুপারি গাছ ও পলিথিনের ছাউনীতে বসবাসের ব্যবস্থা করছিলাম। ইয়াসে তাও নিয়ে গেছে। অমানবিকভাবে তাদেরকে এখন মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। আমরা পারি সরকারী সহায়তায় খাদ্যোপাদান দিতে, কিন্তু কাউকে তো ঘর করে দিতে পারি না। সরকারী বরাদ্দে জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পের মাধ্যমে যদি একটি ঘর টিটুকে দেয়া হয় তাহলে তার দুঃখ-কষ্ট লাঘব হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD